ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক প্রিয় টাইমস

ফ্যাক্ট চেক নিউজ

বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী ও জাপার চারসহ যে ৩৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল,দেখুন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।  এরপর আপিল দায়ের, নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাইয়ে মোট ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।  এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চারজন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একজন, এনসিপির একজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন, খেলাফত মজলিশের একজন, গণসংহতি আন্দোলনের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকিরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১২ প্রার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে চারজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য দিয়েছেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম আবু তাহের। জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় পাঁচজন ভোটারকে পাওয়া না যাওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নূর উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দলীয় মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট নাম, আসন ও ভোটার নম্বর উল্লেখ না থাকার কারণে। নেজাম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা বকেয়া পরিশোধ না করা এবং ১০-বি ফরম দাখিল না করার কারণে। এ কে এম আবু তাহেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করায়। তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী দাবি করেছিলেন। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ১৩ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল। এর মধ্যে রোকনুজ্জামানের প্রস্তাবকারী অন্য এলাকার ভোটার হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া তাঁর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরেও গরমিল পাওয়া গেছে।  রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া): দাখিল করা ৯টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান। এ বিষয়ে মঞ্জুম আলী অভিযোগ করে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাইয়ের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, বড় ধরনের ভুল না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। এভাবে অনেকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সামান্য ত্রুটি থাকার পরও মনোনয়নপত্রটি বাতিল করে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।  যশোর: ছয়টি আসনের মধ্যে যশোর-১ (শার্শা উপজেলা)-এ বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের ও যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যশোর-১ আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।  যশোর-২ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল হয়েছে জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিনের প্রার্থিতা। দলীয় মনোনয়নপত্র না দেওয়ায় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলাম এবং ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়ন বাতিল হয়। স্বাক্ষর ও টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির কারণে বিএনপি মনোনীত শামসুল হক এবং টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।  মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদীখান-শ্রীনগর): মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো কেন্দ্রীয় বিএনপির সেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মমিন আলী। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন দলের সিরাজদীখান উপজেলা সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী জানান, দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ সমর্থনকারী ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে। নরসিংদী: যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে নরসিংদী-২ (পলাশ) ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বাদ পড়ছেন চার প্রার্থী।  যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা হলেন– নরসিংদী-২ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুহসীন আহামেদ, জাতীয় পার্টির রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম এবং নরসিংদী-৪ আসনের জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শফিকুল ইসলাম শাকিল। রাঙামাটি: রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর আসনে মনোনয়পত্র বাছাইয়ের দিনে আট প্রার্থীর মধ্য একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন পহেল চাকমা। মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন): মোট ৯ প্রার্থীর মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন মহিবুল্যাহ খোকন ও তাছলিমা বেগম। মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পটুয়াখালী: চারটি আসনে বাছাইয়ে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– পটুয়াখালী-১ আসনে জাকির হোসেন মঞ্জু, পটুয়াখালী-৩ আসনে ফজলুল হক ও মিজানুর রহমান বাবু। মনোনয়নপত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাটোর: চারটি আসনের ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আজাবুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী সেন্টু আলী ও জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলের প্রার্থী বাবু হোসেন।  নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন– স্বতন্ত্র ড. নূরন্নবী মৃধা ও এনসিপি প্রার্থী জি এ এ মুবিন। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও ফাতেমা খানমের। কুড়িগ্রাম: জেলার দুটি আসনে ১৫ প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে দুজনের মনোনয়ন। আরও এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল করা হয় জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের প্রার্থিতা। একই আসনে স্থগিত করা হয় আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলামের মনোনয়ন। এর মধ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে মামলার তথ্য গোপন করায় পনির উদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। (সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর)

বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী ও জাপার চারসহ যে ৩৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল,দেখুন