ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকতার গাড়ী চালক মেহেদী হাসান মামুন। এই পদে চাকুরী করেই মাত্র কয়েক বছরে কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন তিনি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত আছেন আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শেরপুরের মেহেদী হাসান মামুন।
এক স্টেশনে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সী, কম্পিউটার দোকানদার ও দালাল শ্রেণির লোকদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন মেহেদী। তাদের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন এর কাজ করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
তার মাধ্যম ছাড়া কোন সংশোধন কাজ অনুমোদন করতেন না জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
সেবা গ্রহীতাদের সাথে কন্ট্রাকে টাকার হিসাব না মিললে আবেদন বাতিল করে দিতেন জেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে। তার ভয়ে ভীত থাকতে হয় প্রত্যেক উপজেলার ও জেলা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে। সবার সাথে ধমকের সাথে কথা বলেন তিনি। বদলীর হুমকিও দিতেন কর্মচারীদের।
বিগত উপজেলা নির্বাচনে সদর উপজেলা নির্বাচন কালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন। তৎকালীন সময়ে মেহেদী তার সাথে সব সময় অশোভনীয় আচরণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যা তখন বিভিন্ন মিডিয়া কর্মী, অফিস স্টাফ ও সংশিষ্টরা বিস্মিত ছিল।
তৎকালীন জেলা নির্বাচন অফিসারের প্রশ্রয়ে মেহেদী এমন আচরণ করতেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের উপর ভর করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মেহেদী।
মাত্র ১৭ হাজার টাকার বেতনে চাকুরী করে সে ৫টি বাস ও ২টি (মিনি ট্রাক) পিকআপ গাড়ীর মালিক। ব্যবহার করেন আইফোন ১৫ ফ্রো-ম্যাক্স। তার মেয়ে মেঘ এর নামে লোগো সম্বলিত গর্জনী এক্সপ্রেস নামের কয়েকটি বাস ঝিনাইগাতী -শেরপুর -ঢাকা রুটে চলাচল করে।
তার স্ত্রী সামান্তা জাহান চম্পা বিগত ১২ আগস্ট ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে লিখেন" অবশেষে জামাই এর স্বপ্ন পূরণ হলো।
শেরপুর জেলার বাসিন্দা মেহেদী দীর্ঘ দিন ফেনীতে চাকুরীর সুবাদে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতাদের জিম্মি করে কোটিপতি বনে গেলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নাই- এমন মন্তব্য ভুক্তভোগীদের।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চালক মেহেদি বলেন, আমি ক্ষুদ্র কর্মচারী, আমার এত ক্ষমতা হবে কিভাবে, আই সংশোধন করার ক্ষমতা আমার আছে নাকি?
এদিকে মেহেদীর দূর্নীতি ও অপকর্মের তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়টি জানাজানি হলে আতঙ্কিত হয়ে যায় মেহেদী। তার কয়েকজন সুভাকাঙ্খিকে দিয়ে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে অফিসের বিভিন্ন কর্মচারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছে বলে ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ।
এ ব্যপারে সদ্য যোগদানকৃত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, এখন আর কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী যার যে কাজ, তাকে সেই কাজই করতে হবে। মেহেদির বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
.png)
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৫
ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকতার গাড়ী চালক মেহেদী হাসান মামুন। এই পদে চাকুরী করেই মাত্র কয়েক বছরে কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন তিনি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত আছেন আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শেরপুরের মেহেদী হাসান মামুন।
এক স্টেশনে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সী, কম্পিউটার দোকানদার ও দালাল শ্রেণির লোকদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন মেহেদী। তাদের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন এর কাজ করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
তার মাধ্যম ছাড়া কোন সংশোধন কাজ অনুমোদন করতেন না জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
সেবা গ্রহীতাদের সাথে কন্ট্রাকে টাকার হিসাব না মিললে আবেদন বাতিল করে দিতেন জেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে। তার ভয়ে ভীত থাকতে হয় প্রত্যেক উপজেলার ও জেলা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে। সবার সাথে ধমকের সাথে কথা বলেন তিনি। বদলীর হুমকিও দিতেন কর্মচারীদের।
বিগত উপজেলা নির্বাচনে সদর উপজেলা নির্বাচন কালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন। তৎকালীন সময়ে মেহেদী তার সাথে সব সময় অশোভনীয় আচরণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যা তখন বিভিন্ন মিডিয়া কর্মী, অফিস স্টাফ ও সংশিষ্টরা বিস্মিত ছিল।
তৎকালীন জেলা নির্বাচন অফিসারের প্রশ্রয়ে মেহেদী এমন আচরণ করতেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের উপর ভর করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মেহেদী।
মাত্র ১৭ হাজার টাকার বেতনে চাকুরী করে সে ৫টি বাস ও ২টি (মিনি ট্রাক) পিকআপ গাড়ীর মালিক। ব্যবহার করেন আইফোন ১৫ ফ্রো-ম্যাক্স। তার মেয়ে মেঘ এর নামে লোগো সম্বলিত গর্জনী এক্সপ্রেস নামের কয়েকটি বাস ঝিনাইগাতী -শেরপুর -ঢাকা রুটে চলাচল করে।
তার স্ত্রী সামান্তা জাহান চম্পা বিগত ১২ আগস্ট ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে লিখেন" অবশেষে জামাই এর স্বপ্ন পূরণ হলো।
শেরপুর জেলার বাসিন্দা মেহেদী দীর্ঘ দিন ফেনীতে চাকুরীর সুবাদে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতাদের জিম্মি করে কোটিপতি বনে গেলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নাই- এমন মন্তব্য ভুক্তভোগীদের।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চালক মেহেদি বলেন, আমি ক্ষুদ্র কর্মচারী, আমার এত ক্ষমতা হবে কিভাবে, আই সংশোধন করার ক্ষমতা আমার আছে নাকি?
এদিকে মেহেদীর দূর্নীতি ও অপকর্মের তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়টি জানাজানি হলে আতঙ্কিত হয়ে যায় মেহেদী। তার কয়েকজন সুভাকাঙ্খিকে দিয়ে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে অফিসের বিভিন্ন কর্মচারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছে বলে ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ।
এ ব্যপারে সদ্য যোগদানকৃত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, এখন আর কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী যার যে কাজ, তাকে সেই কাজই করতে হবে। মেহেদির বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
.png)
আপনার মতামত লিখুন