বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, দুইজনের অনুপস্থিতিতেই বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তারা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাননি। যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এইচআরডব্লিউ সবসময়ই মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়ে আসা একটি মানবাধিকার সংগঠন।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে সাজা কমিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘হাসিনার দমন-পীড়নমূলক শাসনামলের ওপরে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে, কিন্তু এরপরও সকল ফৌজদারি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের সব মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচারের মাধ্যমে হাসিনার প্রশাসনের অধীনে ভয়াবহ নির্যাতনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা উচিত।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রশাসনের নির্যাতনের জন্য দায়ীদের যথাযথভাবে জবাবদিহি করা উচিত। এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ফলে সঠিক বিচার নিয়ে উদ্বেগ আরো অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, হাসিনা সরকারের অধীনেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, অন্যায়ভাবে বিচার করা এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের তিন সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভকালে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ বিক্ষোভেই হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও দমন–পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারী। এদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় ‘সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত’ হয়নি বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে জন্য যারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচারকাজ হতে হবে। কিন্তু এই বিচার ও সাজা কোনোটিই সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হয়নি। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়া দরকার। অথচ মৃত্যুদণ্ডের বিধানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এটি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি।
কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় এর (মৃত্যুদণ্ডের) স্থান নেই।’ এদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়কে ‘ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, গত বছরের আন্দোলন দমনে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জন্য এ রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তারা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন যাদের মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় ও নির্দেশদাতা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও তারা বলে আসছেন।
রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘আমরা এ বিচারকার্য সম্পর্কে সরাসরি অবগত না হলেও, আমরা ধারাবাহিকভাবে সব জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রমের পক্ষে কথা বলেছি; বিশেষ করে যখন বিচার আসামির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তখন এ মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য।’ তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের যে কোনো প্রয়োগের বিরোধিতা করে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সত্য উদঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচারের একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে যা জাতীয় ঐক্য ও ক্ষত কাটিয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে যাবে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা খাতে অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন আর না ঘটে।’
বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাইকমিশনার টুর্ক শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শন করতে হবে।’
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগে বিচার হয়েছে।
সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচটি অভিযোগগুলো হলো: গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো। এগুলোর মধ্যে শেষ তিনটি অভিযোগে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর প্রথম দুই অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।
.png)
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, দুইজনের অনুপস্থিতিতেই বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তারা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাননি। যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এইচআরডব্লিউ সবসময়ই মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়ে আসা একটি মানবাধিকার সংগঠন।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে সাজা কমিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘হাসিনার দমন-পীড়নমূলক শাসনামলের ওপরে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে, কিন্তু এরপরও সকল ফৌজদারি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের সব মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচারের মাধ্যমে হাসিনার প্রশাসনের অধীনে ভয়াবহ নির্যাতনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা উচিত।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রশাসনের নির্যাতনের জন্য দায়ীদের যথাযথভাবে জবাবদিহি করা উচিত। এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ফলে সঠিক বিচার নিয়ে উদ্বেগ আরো অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, হাসিনা সরকারের অধীনেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, অন্যায়ভাবে বিচার করা এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের তিন সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভকালে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ বিক্ষোভেই হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও দমন–পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারী। এদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় ‘সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত’ হয়নি বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে জন্য যারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচারকাজ হতে হবে। কিন্তু এই বিচার ও সাজা কোনোটিই সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হয়নি। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়া দরকার। অথচ মৃত্যুদণ্ডের বিধানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এটি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি।
কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় এর (মৃত্যুদণ্ডের) স্থান নেই।’ এদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়কে ‘ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, গত বছরের আন্দোলন দমনে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জন্য এ রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তারা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন যাদের মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় ও নির্দেশদাতা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও তারা বলে আসছেন।
রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘আমরা এ বিচারকার্য সম্পর্কে সরাসরি অবগত না হলেও, আমরা ধারাবাহিকভাবে সব জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রমের পক্ষে কথা বলেছি; বিশেষ করে যখন বিচার আসামির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তখন এ মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য।’ তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের যে কোনো প্রয়োগের বিরোধিতা করে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সত্য উদঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচারের একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে যা জাতীয় ঐক্য ও ক্ষত কাটিয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে যাবে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা খাতে অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন আর না ঘটে।’
বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাইকমিশনার টুর্ক শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শন করতে হবে।’
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগে বিচার হয়েছে।
সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচটি অভিযোগগুলো হলো: গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো। এগুলোর মধ্যে শেষ তিনটি অভিযোগে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর প্রথম দুই অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।
.png)
আপনার মতামত লিখুন