ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীসহ সবার নজর এখন নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। অর্থাৎ কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে চলছে দৌড়ঝাঁপ। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। বিএনপি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে ‘৩৮’ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
এজন্য সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর থেকে ৩৮টি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। তাদের জন্য বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কিছু এরই মধ্যে খালি হয়েছে। অন্যগুলোয় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, অবসরে যাওয়া বিচারপতি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থান রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে। এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। বিএনপি ও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১১ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজনকে উপমন্ত্রী করা হতে পারে। শেষ মুহূর্তে এটি কম-বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিকেল ৪টায় শুরু হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। এদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিতে কয়েকজনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ কয়েকদিনের মধ্যে ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের জন্য বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু এখন খালি আছে। বাকিগুলো শিগগির খালি হবে। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কারে কিছু সময় লাগতে পারে। তারপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা উঠতে পারবেন। যত দ্রুত সম্ভব বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে অবসরে যাওয়া চারজন বিচারপতিকে গত রোববার চিঠি দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। তাদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। অবসরে যাওয়া আরেকজন বিচারপতিকে আগামী মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে ৩৯, মিন্টো রোডের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজেদের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব উপদেষ্টা এখন বাংলোবাড়িতে থাকছেন, তারা শিগগির ছেড়ে দেবেন। সবমিলিয়ে ২৪টি বাংলোবাড়ি খালি হবে। অন্যদিকে, বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩-এ এখন ৫টি অ্যাপার্টমেন্ট খালি আছে। এ তথ্য জানিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আরও ৭টি অ্যাপার্টমেন্ট কয়েকদিনের মধ্যে খালি হয়ে যাবে। গত রোববার সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে যান। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কোনটার কী অবস্থা, কোথায় সংস্কার করতে হবে—এসব দিক তারা দেখে এসেছেন। ২৯ নম্বর মিন্টো রোডে অবস্থিত বাংলোবাড়িটি বিরোধী দলীয় নেতার জন্য সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চাইলে সেখানে উঠতে পারবেন বিরোধী দলীয় নেতা। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সূত্রগুলো বলেছে, অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার সব সদস্য সরকারি বাসায় ওঠেন না। কেউ কেউ নিজ বাসায় থেকে অফিস করেন। ফলে এখন যেসব বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে, এর মধ্যেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তা ছাড়া বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কার করে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এর পরই সেগুলোয় উঠতে পারবেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাকি আসনে জয়ী হয়েছেন।
.png)
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীসহ সবার নজর এখন নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। অর্থাৎ কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে চলছে দৌড়ঝাঁপ। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। বিএনপি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে ‘৩৮’ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
এজন্য সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর থেকে ৩৮টি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। তাদের জন্য বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কিছু এরই মধ্যে খালি হয়েছে। অন্যগুলোয় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, অবসরে যাওয়া বিচারপতি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থান রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে। এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। বিএনপি ও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১১ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজনকে উপমন্ত্রী করা হতে পারে। শেষ মুহূর্তে এটি কম-বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিকেল ৪টায় শুরু হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। এদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিতে কয়েকজনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ কয়েকদিনের মধ্যে ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের জন্য বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু এখন খালি আছে। বাকিগুলো শিগগির খালি হবে। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কারে কিছু সময় লাগতে পারে। তারপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা উঠতে পারবেন। যত দ্রুত সম্ভব বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে অবসরে যাওয়া চারজন বিচারপতিকে গত রোববার চিঠি দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। তাদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। অবসরে যাওয়া আরেকজন বিচারপতিকে আগামী মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে ৩৯, মিন্টো রোডের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজেদের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব উপদেষ্টা এখন বাংলোবাড়িতে থাকছেন, তারা শিগগির ছেড়ে দেবেন। সবমিলিয়ে ২৪টি বাংলোবাড়ি খালি হবে। অন্যদিকে, বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩-এ এখন ৫টি অ্যাপার্টমেন্ট খালি আছে। এ তথ্য জানিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আরও ৭টি অ্যাপার্টমেন্ট কয়েকদিনের মধ্যে খালি হয়ে যাবে। গত রোববার সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে যান। বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কোনটার কী অবস্থা, কোথায় সংস্কার করতে হবে—এসব দিক তারা দেখে এসেছেন। ২৯ নম্বর মিন্টো রোডে অবস্থিত বাংলোবাড়িটি বিরোধী দলীয় নেতার জন্য সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চাইলে সেখানে উঠতে পারবেন বিরোধী দলীয় নেতা। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সূত্রগুলো বলেছে, অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার সব সদস্য সরকারি বাসায় ওঠেন না। কেউ কেউ নিজ বাসায় থেকে অফিস করেন। ফলে এখন যেসব বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে, এর মধ্যেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তা ছাড়া বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কার করে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এর পরই সেগুলোয় উঠতে পারবেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাকি আসনে জয়ী হয়েছেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন