ঢাকা    সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
দৈনিক প্রিয় টাইমস

মাথা নোয়াবে না অগ্নিগর্ভ ইরান



মাথা নোয়াবে না অগ্নিগর্ভ ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসনভার পরিচালনা করা এ প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের হৃৎপিণ্ডে খামেনির প্রধান কার্যালয় ও আবাসন লক্ষ্য করে চালানো বিধ্বংসী হামলায় তিনি ছাড়াও তার কন্যা, জামাতা, নাতি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন।

 ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাতের সম্মুখীন হলেও দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণ নতি স্বীকার না করার শপথ নিয়েছেন। বরং সর্বোচ্চ নেতার রক্তে রঞ্জিত ইরান এখন এক অদম্য প্রতিশোধ স্পৃহায় ফেটে পড়ছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে মাশহাদ, শিরাজ ও লোরিস্তানের রাজপথে এখন কেবলই শোক আর প্রতিরোধের উত্তাল স্লোগান। তেহরানে অবস্থিত আলজাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খামেনির নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লাখ লাখ মানুষ শোকাতুর হৃদয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। আকাশজুড়ে এখনো যুদ্ধের দামামা বাজলেও এবং মাঝে মাঝে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ইরানিরা দমে যাননি। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ নেতার এ মহাপ্রয়াণ কেবল একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অগ্নিশিখা। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং নেতার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে। তেহরানের আকাশে এখন বারুদের কড়া গন্ধ থাকলেও মানুষের চোখেমুখে পরাজয়ের গ্লানি নেই, বরং আছে শত্রুর দম্ভ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

 শীর্ষ নেতৃত্বের রক্তে রঞ্জিত তেহরান: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, শনিবারের ভয়াবহ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্ৰী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান শত্রুপক্ষের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের ওপর চালানো এ হামলাকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে দাবি করলেও ইরান একে ‘এক জঘন্য ও কাপুরুষোচিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হামলার ভয়াবহতা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বেসামরিক স্থাপনাও এর শিকার হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে ১৭০ শিক্ষার্থী ছিল, যার মধ্যে মাত্র কয়েকজন অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, নিরীহ শিশুদের রক্তে রাঙানো এ অন্যায়ের জবাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই দেওয়া হবে। ইরানের ২৪টি প্রদেশে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০১ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে রেড ক্রিসেন্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। শোকাচ্ছন্ন জনপদে প্রতিশোধের স্পৃহা: ইরানের অভ্যন্তরে শোকের আবহেও প্রতিরোধে এক অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বোচ্চ নেতার স্মরণে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে।

 তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন এবং একই সঙ্গে ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে চিৎকার করছেন। প্রতিবেশী ইরাকেও এ ঘটনার প্রতিবাদে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বাগদাদের গ্রিন জোনে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানেও মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া আলি খামেনি ইরানকে যে প্রতিরক্ষা বলয়ে আবদ্ধ করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর সেই বলয় এখন আরও মারমুখী হয়ে উঠেছে। সমালোচকরা মনে করেছিলেন খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরান হয়তো অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কাউন্সিল কাজ শুরু করলেও সামরিক সিদ্ধান্তগুলো এখন সরাসরি আইআরজিসি এবং উচ্চতর প্রতিরক্ষা পর্ষদের হাতে। ইরান বিশ্বকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে, তাদের নেতৃত্ব কেবল কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আদর্শিক সংগ্রাম। খামেনির প্রয়াণে ইরান মাথা নত করেনি, বরং এক বিশাল দহন বুকে নিয়ে তারা শত্রুপক্ষের ওপর মরণকামড় দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত: ইরান এ বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেনি, বরং শুরু করেছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ। আইআরজিসি এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে তাদের পাল্টা আক্রমণের ষষ্ঠ পর্যায় শুরু করেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। এ ছাড়া ইসরায়েলের ভেতরে তেল আবিবে অবস্থিত সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ‘হাকিরিয়া’ এবং তেল নফ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানি মিসাইল। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি কেবল শুরু; শত্রুপক্ষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য ‘অনুশোচনামূলক চপেটাঘাত’ করার আরও কঠোর ও ভিন্নতর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের এ পাল্টা আঘাতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। কাতারের দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বাসিন্দারা গতরাতে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের জেরে সেখানে এক ব্যক্তি নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানের ভারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আবাসিক ও কৌশলগত এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত ৫: মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

 বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। মার্কিন রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, দাবি ইরানের: আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই রণতরীতে আঘাত হেনেছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে আলজাজিরার কাছে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইরানের ৯টি নৌযান ধ্বংস করে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের: তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৯টি নৌযান ধ্বংস করে ডুবিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নৌযান তুলনামূলকভাবে বড় ও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌ-সদর দপ্তর ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। পেজেশকিয়ানের হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সামনে এগিয়ে যাব। তার শাহাদাতবরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং কোনো হুমকি বা চাপ ইরানকে তার অধিকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। ইরানের এ অনড় অবস্থান এবং প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা গোটা বিশ্বে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় এ হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া এ হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি প্রয়োগ করবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্পের দাবি, এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক শক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে রাজি ট্রাম্প: ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তিনিও এতে রাজি হয়েছেন। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা (ইরানের নতুন নেতৃত্ব) কথা বলতে চায় এবং আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। যে বিষয়গুলো খুবই বাস্তবসম্মত এবং করা সহজ ছিল, তা তাদের আরও আগেই করা উচিত ছিল। তারা অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছে।

’ ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কখন কথা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে শঙ্কা, সাগরে আটকা দেড়শ ট্যাংকার: আঞ্চলিক অস্থিরতা এখন কেবল আকাশপথে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও এর বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের এই মুহূর্তে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওমানের উত্তরে এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এ সংঘাতের আশঙ্কায় ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রায় ১৫০টি তেলের ট্যাংকার এবং এলএনজি বহনকারী জাহাজ সাগরে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের এ প্রেক্ষাপটে জাহাজগুলো উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রিয় টাইমস

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


মাথা নোয়াবে না অগ্নিগর্ভ ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসনভার পরিচালনা করা এ প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের হৃৎপিণ্ডে খামেনির প্রধান কার্যালয় ও আবাসন লক্ষ্য করে চালানো বিধ্বংসী হামলায় তিনি ছাড়াও তার কন্যা, জামাতা, নাতি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন।

 ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাতের সম্মুখীন হলেও দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণ নতি স্বীকার না করার শপথ নিয়েছেন। বরং সর্বোচ্চ নেতার রক্তে রঞ্জিত ইরান এখন এক অদম্য প্রতিশোধ স্পৃহায় ফেটে পড়ছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে মাশহাদ, শিরাজ ও লোরিস্তানের রাজপথে এখন কেবলই শোক আর প্রতিরোধের উত্তাল স্লোগান। তেহরানে অবস্থিত আলজাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খামেনির নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লাখ লাখ মানুষ শোকাতুর হৃদয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। আকাশজুড়ে এখনো যুদ্ধের দামামা বাজলেও এবং মাঝে মাঝে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ইরানিরা দমে যাননি। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ নেতার এ মহাপ্রয়াণ কেবল একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অগ্নিশিখা। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং নেতার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে। তেহরানের আকাশে এখন বারুদের কড়া গন্ধ থাকলেও মানুষের চোখেমুখে পরাজয়ের গ্লানি নেই, বরং আছে শত্রুর দম্ভ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

 শীর্ষ নেতৃত্বের রক্তে রঞ্জিত তেহরান: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, শনিবারের ভয়াবহ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্ৰী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান শত্রুপক্ষের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের ওপর চালানো এ হামলাকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে দাবি করলেও ইরান একে ‘এক জঘন্য ও কাপুরুষোচিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হামলার ভয়াবহতা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বেসামরিক স্থাপনাও এর শিকার হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে ১৭০ শিক্ষার্থী ছিল, যার মধ্যে মাত্র কয়েকজন অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, নিরীহ শিশুদের রক্তে রাঙানো এ অন্যায়ের জবাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই দেওয়া হবে। ইরানের ২৪টি প্রদেশে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০১ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে রেড ক্রিসেন্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। শোকাচ্ছন্ন জনপদে প্রতিশোধের স্পৃহা: ইরানের অভ্যন্তরে শোকের আবহেও প্রতিরোধে এক অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বোচ্চ নেতার স্মরণে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে।

 তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন এবং একই সঙ্গে ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে চিৎকার করছেন। প্রতিবেশী ইরাকেও এ ঘটনার প্রতিবাদে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বাগদাদের গ্রিন জোনে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানেও মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া আলি খামেনি ইরানকে যে প্রতিরক্ষা বলয়ে আবদ্ধ করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর সেই বলয় এখন আরও মারমুখী হয়ে উঠেছে। সমালোচকরা মনে করেছিলেন খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরান হয়তো অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কাউন্সিল কাজ শুরু করলেও সামরিক সিদ্ধান্তগুলো এখন সরাসরি আইআরজিসি এবং উচ্চতর প্রতিরক্ষা পর্ষদের হাতে। ইরান বিশ্বকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে, তাদের নেতৃত্ব কেবল কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আদর্শিক সংগ্রাম। খামেনির প্রয়াণে ইরান মাথা নত করেনি, বরং এক বিশাল দহন বুকে নিয়ে তারা শত্রুপক্ষের ওপর মরণকামড় দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত: ইরান এ বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেনি, বরং শুরু করেছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ। আইআরজিসি এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে তাদের পাল্টা আক্রমণের ষষ্ঠ পর্যায় শুরু করেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। এ ছাড়া ইসরায়েলের ভেতরে তেল আবিবে অবস্থিত সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ‘হাকিরিয়া’ এবং তেল নফ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানি মিসাইল। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি কেবল শুরু; শত্রুপক্ষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য ‘অনুশোচনামূলক চপেটাঘাত’ করার আরও কঠোর ও ভিন্নতর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের এ পাল্টা আঘাতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। কাতারের দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বাসিন্দারা গতরাতে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের জেরে সেখানে এক ব্যক্তি নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানের ভারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আবাসিক ও কৌশলগত এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত ৫: মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

 বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। মার্কিন রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, দাবি ইরানের: আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই রণতরীতে আঘাত হেনেছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে আলজাজিরার কাছে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইরানের ৯টি নৌযান ধ্বংস করে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের: তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৯টি নৌযান ধ্বংস করে ডুবিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নৌযান তুলনামূলকভাবে বড় ও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌ-সদর দপ্তর ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। পেজেশকিয়ানের হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সামনে এগিয়ে যাব। তার শাহাদাতবরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং কোনো হুমকি বা চাপ ইরানকে তার অধিকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। ইরানের এ অনড় অবস্থান এবং প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা গোটা বিশ্বে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় এ হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া এ হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি প্রয়োগ করবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্পের দাবি, এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক শক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে রাজি ট্রাম্প: ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তিনিও এতে রাজি হয়েছেন। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা (ইরানের নতুন নেতৃত্ব) কথা বলতে চায় এবং আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। যে বিষয়গুলো খুবই বাস্তবসম্মত এবং করা সহজ ছিল, তা তাদের আরও আগেই করা উচিত ছিল। তারা অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছে।

’ ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কখন কথা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে শঙ্কা, সাগরে আটকা দেড়শ ট্যাংকার: আঞ্চলিক অস্থিরতা এখন কেবল আকাশপথে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও এর বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের এই মুহূর্তে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওমানের উত্তরে এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এ সংঘাতের আশঙ্কায় ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রায় ১৫০টি তেলের ট্যাংকার এবং এলএনজি বহনকারী জাহাজ সাগরে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের এ প্রেক্ষাপটে জাহাজগুলো উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


দৈনিক প্রিয় টাইমস

সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক
নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ
বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার
প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com