প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫
বাস্তবায়ন পদ্ধতিতেই ঝুলছে জুলাই জাতীয় সনদ
বিষয়কে ঐকমত্য কমিশন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। জুলাই সনদ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, ‘সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই মূল সংকট। মানে কীভাবে বা কখন বাস্তবায়ন হবে।
এ কথাও সত্য যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ আছে, যা আমরা অতীতে কখনো দেখিনি। দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনার ফলে এ আকাঙ্ক্ষা জেগেছে, সমাধান করতেই হবে। না হলে এর পরিণতি অমঙ্গলকর হতে পারে সবার জন্যই।
তিনি বলেন, বল এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কোর্টে। আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে আছি। সম্মানিত রাজনীতিবিদদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী চান? কারণ, তাদের দায়িত্ব সরকার পরিচালনা করা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। ঐকমত্য কমিশন সূত্রের দাবি, কমিশন সরকারকে বাস্তবায়নের একাধিক বিকল্প পদ্ধতি সুপারিশ করবে।
এখন যে কয়টি পদ্ধতি আলোচনায় আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে বিকল্প পদ্ধতির সংখ্যা কমিয়ে আনতে চায়।
যদি দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হয়, তাহলে ৫ অক্টোবর দলগুলোর মতামত শোনার পর কমিশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করে বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। ৮ বা ৯ অক্টোবর বাস্তবায়নের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে চায় তারা।
দলগুলোয় এখনো মতভেদ: জুলাই সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর পরস্পরের মাঝে এখনো অনৈক্য রয়ে গেছে। সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান পুরোপুরি ভিন্ন।
বিএনপি বলছে, সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের একমাত্র বৈধ পথ বা ফোরাম হচ্ছে জাতীয় সংসদ। আগামী সংসদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো উপায়ে সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়ারও পক্ষে দলটি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই আইনি ভিত্তি দিয়ে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হতে হবে।
অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, আগামী সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে এসবের বাস্তবায়ন ঝুলে যাবে। তা ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চাওয়া গণপরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ গণপরিষদ এবং নিয়মিত সংসদ হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও মনে করে দলটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই রাজনৈতিক মতভিন্নতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
কারণ, বাস্তবায়ন পদ্ধতি পছন্দমতো না হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দলের জুলাই সনদে সই না করার আশঙ্কা আছে। রাজনীতিবিদরা যা বলছেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে ৫ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা করবে।
সেখানে কী হয়, সেটা দেখার পর কথা বলা যাবে। তবে আমরা সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছি, তা আগেও বলেছি। কিন্তু কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না, তেমন কোনো দলিল হতে পারে না, সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এর বাইরেও অনেক পন্থা থাকতে পারে, যাতে আমরা এটার বৈধতা দিতে, আইনি ভিত্তি দিতে পারি। আপিল বিভাগের পরামর্শ নিতে পারি আমরা।
ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদের মধ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কালবেলাকে বলেন, আমরা মনে করি জুলাই সনদ আরও আগেই হওয়া সম্ভব ছিল। কমিশনের চেষ্টাও ছিল। বিশেষ বিশেষ দলের বিরোধিতার কারণে সেটা হয়নি। যদি আবারও একই কায়দায় দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাধা প্রয়োগ করা হয় আর কমিশন শক্ত অবস্থান নিতে না পারে, তাহলে তো হবে না। আমরা বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো এ সরকারের সময় থেকেই অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে; কিন্তু রাষ্ট্র কাঠামোর অনেক বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি, যাতে সংবিধানের অনেক মৌলিক জায়গায় পরিবর্তন আসবে।
কিছু আশঙ্কার কথা জানিয়ে আখতার আরও বলেন, তার দল এনসিপি মনে করে গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন সংবিধানে নতুনভাবে লিখিত ধারা, উপধারা এবং কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনী ও সংস্কার করা গেলে সেগুলোকে টেকসই করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছাতে হবে।
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com